যাত্রার আগেই ইন্ডিয়ান ভিসা অনলাইন অ্যারাইভাল ওয়েবসাইটের আবেদন ফরমে পাসপোর্টধারী যাত্রীর সম্পর্কে চাওয়া তথ্য পূরণ করতে হবে। ১ অক্টোবর থেকে চালু করা নতুন এ নিয়মের কারণে যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রী কমেছে অর্থেকের বেশি। গত তিনদিনে বেনাপোল দিয়ে ৩ হাজার ৮৮২ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছেন। স্বাভাবিক সময়ে চিকিৎসা, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন সাত-আট হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ভারত সরকার ট্যুরিস্ট, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধ করে দেয়। তবে মেডিকেল ভিসা চালু রাখলেও বিভিন্ন শর্তারোপ করা হয়। ১ অক্টোবর ভারতীয় দূতাবাস নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টা আগে ইন্ডিয়ার ভিসা অনলাইনের ওয়েবসাইটে আগমন ফরম পূরণ করে প্রিন্ট কপি সঙ্গে নিতে নির্দেশ দেয়। যেখানে পাসপোর্টধারীদের সব তথ্য এন্ট্রি থাকবে। তবে অনলাইনে তাদের সার্ভার সবসময় সচল না থাকায় নতুন করে দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এর আগে পাসপোর্টধারীদের ভারত ইমিগ্রেশনে গিয়ে হাতে লিখে আগমন ফরম পূরণ করতে হতো। এছাড়া বেড়েছে ভ্রমণ খরচ। ভারতে যাওয়ার আগে একজন পাসপোর্টধারীকে ভারতীয় দূতাবাসকে দেড় হাজার টাকা ভিসা ফি, বাংলাদেশ সরকারকে ১ হাজার ৫৭ টাকা ভ্রমণ ফি ও পোর্ট চার্জ পরিশোধ করতে হয়, যা গত বছরেও ছিল নির্ধারিত অর্থের অর্ধেক।
ভারতগামী পাসপোর্টধারী আশানুর রহমান বলেন, ‘নানা শর্তে ভ্রমণ ও ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যশোর থেকে ভিসা নিতাম। যশোরে ভিসা বন্ধ থাকায় এখন দুবার ঢাকা যেতে হচ্ছে। ভিসা ফি দ্বিগুণ করেছে। অনেক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তারপর আবার অনলাইনে আগাম তথ্য পূরণ আর এক বিড়ম্বনা। এসব কারণে পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে এসেছে।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, ভিসা কমে আসায় পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াতও কমে এসেছে। বৃহস্পতি-শনিবার পর্যন্ত তিনদিনে ৩ হাজার ৮৮২ জন যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ভারতে গেছেন ৭৯৬ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৪৮৬ জন। শুক্রবার ভারতে গেছেন ৬০৯ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৫৮৬ জন। সর্বশেষ শনিবার ভারতে গেছেন ৬০৬ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৭৯৯ জন।